প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২৯

পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর দুই দিন ব্যাপি ২৯-তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন শুরু

নাজমুস সাকিব আপেল
পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর দুই দিন ব্যাপি ২৯-তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন শুরু

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়ায় দুই দিন ব্যাপি ২৯-তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন ২০১৯ বুধবার অনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। একাডেমীর সার্বিক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২৯ তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন ১১-১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে। 

দুই দিনব্যাপি এ পরিকল্পনা সম্মেলনে আর ডি এ বগুড়ার মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ আমিনুল ইসলামের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে লালিত সেই বাংলাদেশকে তাঁর সুযোগ্য কণ্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরোত্তর উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে বলিষ্ঠ চিত্তে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রতিষ্ঠিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া, দেশের পল্লী উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই একাডেমীর বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক কর্মকান্ড যেমন- সুপেয় খাবার পানি নিশ্চিতকরণ, কমিউনিটি ভিত্তিতে বায়োগ্যাস সরবরাহ, পানি সাশ্রয়ী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জৈবসার উৎপাদন সহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। দেশের জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে এ সকল কর্মকান্ড সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিলে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশে রূপান্তর হবে, আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে ।

তিনি এসময় আরডিএ, বগুড়ার ২৯ তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে আগত বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দকে বঙ্গবন্ধুর চেতনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি ইসতেহার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন মূখি প্ররিকল্পনা গ্রহণে বাস্তবসম্মত দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। 

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আমার গ্রাম আমার শহর-এর বিষয়টিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

সেই স্বপ্নের গ্রাম বিনির্মাণে এবং সরকারের ২০২১ ও ২০৪১ এর রূপকল্পে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করার যে প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন সেখানে গ্রামগুলোতে নগর সুবিধার প্রসার বাড়ানো সম্ভব হলে বদলে যেতে পারে গ্রামীণ জনগণের জীবনচিত্র সেইসাথে দূর হতে পারে দারিদ্র। জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৌঁছে যেতে পারে কাংখিত মধ্যম আয়ের দেশে।

এ বছর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রয়াসে ২৯ তম বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে আরডিএ বগুড়া। সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ অতিথিবৃন্দের সুচিন্তিত পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বার্ষিক পরিকল্পনাকে আরো বেশি কার্যকর করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান বগুড়া-৫ ,স্থানীয় সরকার-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন তালুকদার,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ এর উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান,রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। 

বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক (প্রশাসন), আরডিএ,বগুড়ার জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ, অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ, অনুষদ সদস্যবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আগত ব্যক্তিবর্গ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং গনমাধ্যমকর্মী সহ একাডেমীর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

উপরে