বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিন্টু গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে
বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর লুৎফর রহমান মিন্টুকে স্থানীয় জনতা আটক করে গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মিন্টু বগুড়া সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এবং পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে মিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে গোপনে বাড়ি ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার দুপুরে এলাকাবাসী তাঁর বাড়িসহ আশপাশে তল্লাশি শুরু করে। বিকেল ৩টার দিকে কর্ণপুর উত্তরপাড়ায় বড় ভাই বুলবুলের নির্মাণাধীন বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা।
এ সময় খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গ্রামবাসী মিন্টুকে গণপিটুনি দেয় এবং ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পেছনের ঘটনা
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই এলাকার কিশোর রোহান চৌধুরীকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মিন্টু ছিলেন প্রধান আসামি। জামিন পেলেও এ ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকায় অবস্থান করতে পারছিলেন না। রোহান হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মিন্টুর প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা ঠেকিয়ে রাখে। আজ তাঁকে আটক করার পর গ্রামবাসী হত্যাচেষ্টা চালায়।
পুলিশের বক্তব্য
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, “মিন্টুর অবস্থান জানতে পেরে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় জনতা জড়ো হলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
