গাবতলীতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম করে সার বীজ বিতরণের অভিযোগ
বগুড়ার গাবতলীতে শাহাদত হোসেন নামের এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি গাবতলী কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন থেকেই অবাধে অনিয়ম করে আসছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গতকাল রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে একজন ব্যক্তিকে অনিয়ম করে (সহিস্বাক্ষর না দিয়ে) আটজন কৃষকের নামে সার ও বীজ উত্তোলন করতে সহযোগিতা করেছেন।
জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বড় ইটালী, ছোট ইটালী, মাঝবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের দায়িত্বে আছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন। গতকাল রোববার সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছিল। সেখানে দেখা যায়, বড় ইটালী গ্রামের মোকছেদ (৬২) নামের একজন ব্যক্তি ভুয়া নাম স্বাক্ষর দিয়ে আটজন কৃষকের নামে সার ও বীজ উত্তোলন করে ভ্যানযোগে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে পাঁচজনের নামে সার ও বীজ নিয়ে গেছেন নশিপুর ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের শামিমা আক্তার নামের এক মহিলা।
এ ব্যাপারে মোকছেদ জানান, কৃষকদের অনুরোধে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেনের সহযোগিতায় তিনি আটজনের সার-বীজ নিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বিকেল পৌণে ৪টায় দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোন কৃষক নেই। তবে ৪টি অটোভ্যান চালক কৃষি দপ্তরের গুদাম থেকে সার ও বীজ বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে।
অনেকের অভিযোগ, একজন হয়ে এভাবে অনেকজনের সার বীজ উত্তোলন করার সুযোগ পেলে আত্মসাত করার প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জানান, নশিপুর অনেক দূরে হওয়ায় কৃষকরা স্বশরীরে গাবতলী সদরে আসতে চান না। তাই আটজনের সার-বীজ মোকছেদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের সাফ সাফ জানিয়ে দেন, কৃষিকার্ড দেখিয়ে একজন কৃষক সশ্বরীরে উপস্থিত হয়ে নাম-সই দিয়ে সার বীজ উত্তোলন করতে পারবে। কিন্তু একজনের হাতে আটজনের সার বীজ দেয়া কোমমতেই ঠিক নয়। এই অনিয়মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকেই নিতে হবে।
