বগুড়ায় জাপার কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জিডি
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) জেলা কার্যালয় দখলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে শহরের বাদুরতলা ইদরিস খান লেনের বাসিন্দা জোবায়ের আলম (৩৮) শনিবার বিকেলে বগুড়া সদর থানায় এ জিডি করেন।
জিডিতে হামলা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে জেলা জাপার কার্যালয়কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দলীয় প্রচারণা অফিস’ হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত একটি জিডি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কয়েকজন শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে মিছিল নিয়ে গিয়ে জাপার জেলা কার্যালয় দখলে নেন এবং সেখানে দুটি ব্যানার টানান। এ সময় জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
ব্যানার টাঙানোর সময় এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদসহ দলটির কিছু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এস এ মাহমুদ বলেন, ব্যানার টাঙানোর সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তবে পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তিনি দাবি করেন, “জেলা প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের আগে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা জাপার কার্যালয় যেখানে ছিল, সেটি সরকারি জায়গা। ইতোমধ্যে দুটি কার্যালয়ের লিজ বাতিল করা হয়েছে। ফলে জায়গাটি এখন জনগণের সম্পত্তি, জাপার নয়।”
থানায় করা জিডিতে বলা হয়, শহরের উত্তরা সিনেমা হলের পরিত্যক্ত ভবন নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করে কয়েক দিন ধরে সেখানে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের পক্ষে এবং এনসিপির দলীয় প্রচারণা অফিস হিসেবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা জাপার নেতা রুবেল, সোহাগ, রোবায়েত, ফজলে রহিম, মাকসুদ আলম, সুমন প্রামাণিক, ইকবাল হোসেন, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা ও মারধর করেন এবং জায়গা ছাড়তে হুমকি দেন বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার বলেন, “এনসিপির নেতা-কর্মীরা জাপার কার্যালয় দখল করতে আসার সময় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাপার নেতাদের সঙ্গে তাদের কোনো বাকবিতণ্ডা হয়নি। হামলা বা হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তিনি বলেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
কার্যালয়ের জমির ইজারা প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান বলেন, ওই জায়গা সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য উত্তরা সিনেমা হলের মালিক হাবিবুর রহমানের নামে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে সড়ক প্রশস্তকরণের কারণে সিনেমা হল ভেঙে ফেলা হয়। পরে জমি সংক্রান্ত একাধিক মামলার পর আদালত ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা জেলা জাপার নামে এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা উত্তরা সঞ্চয় কো-অপারেটিভ সমিতিকে লিজ দেওয়ার পক্ষে রায় দেন। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেই এনসিপি নেতা-কর্মীরা কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি দলের মহাসচিবকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
