ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে : বগুড়ায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমরা একটি অসাধারণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেব, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় অন্যের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা সৃষ্টি করবো না। কেউ যদি এতে বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনায় পরিণত হবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না। তাই সবার ভোটাধিকার উন্মুক্ত রাখা হবে।
সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আয়োজন এবং গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আইন উপদেষ্টা বলেন, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। একবার হয়েছে রাতের ভোট, একবার হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া নির্বাচন, আরেকবার হয়েছে ডামি ও ভুয়া ভোট। টানা ১৫ বছর ধরে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে এবং জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছে।
তিনি বলেন, গণভোট কোনো দলের স্বার্থে নয়, এটি দেশের স্বার্থে। আপনারা যদি চান বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক, তাহলে হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যদি অন্যায়-অবিচারের পক্ষে থাকতে চান, তাহলে না ভোট দেবেন। আমরা দুর্নীতি, শোষণ ও অনিয়মমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সময়ে প্রবেশ করেছি। এই সময় আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কোনোভাবেই হারানো যাবে না। ভোট মানে হচ্ছে নিজের সরকার নিজে নির্ধারণ করা। কে সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলবে, তা জনগণই ঠিক করবে। আগে এটি ঠিক করতো শেখ হাসিনা, এখন ঠিক করবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথমবার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমরা তিনটি অগ্রাধিকার ঠিক করেছিলাম— সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা।
