প্রকাশিত : ৪ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩১

অপহরণ অভিযোগে বগুড়া শহর যুবদল নেতা বহিষ্কার

আদালত চত্বর থেকে যুবক তুলে নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপহরণ অভিযোগে বগুড়া শহর যুবদল নেতা বহিষ্কার
রায়হান শরীফ মাসুম। ছবি- সংগৃহীত

বগুড়ায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শহর যুবদলের সহসভাপতি রায়হান শরীফ মাসুমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক সাজু আহম্মেদ রবি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া আদালত চত্বর থেকে হাজিরা দিতে আসা নয়ন নামের এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাসুমের বিরুদ্ধে। অপহৃত যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা শহিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপচাঁচিয়া উপজেলার বাসিন্দা নয়নের সঙ্গে কাহালুর রেজাউল নামের এক ব্যক্তির টাকা লেনদেন সংক্রান্ত মামলা চলছে। সোমবার (২ মার্চ) ওই মামলায় হাজিরা দিতে নয়ন বগুড়া আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মাসুমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে নয়নের আত্মীয় ও বগুড়া শহর শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে নয়নকে আটকে রেখে মারধরের ঘটনা দেখতে পান। এ সময় তাকেও আটক করে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে সোমবার সন্ধ্যার আগে বগুড়া সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জলেশ্বরীতলা এলাকার ওই ভবন থেকে নয়ন ও শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই অভিযুক্তরা সরে যান।

বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব মমি বলেন, ঘটনাটি জানার পর জেলা নেতাদের অবহিত করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রায়হান শরীফ মাসুমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাসুম পলাতক রয়েছেন। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, অপহৃত নয়ন ও শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপরে