নন্দীগ্রামে হত্যা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ছাত্রদল-যুবদলের ৯ নেতাকর্মী বহিষ্কার
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় পৃথক হত্যা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিনও রয়েছেন।
শুক্রবার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নবীর শেখ, পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন, দপ্তর সম্পাদক সাজু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক সুজন মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল শাকিল, মো. আসিফ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য তাদের দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা যুবদল জানিয়েছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. বুলবুল এবং বুড়ইল ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের অপকর্মের দায়ভার সংগঠন গ্রহণ করবে না এবং তাদের সঙ্গে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল গ্রামের জামে মসজিদের সামনে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী মিলন রহমান (১৬) নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের দিলবর রহমানের ছেলে।
এছাড়া গত ১ মার্চ নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তবে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ‘সাময়িক বহিষ্কার’ শব্দটি রহস্যজনক এবং এতে অভিযুক্তদের পুনর্বহালের সুযোগ থেকে যাচ্ছে।
