সুনীল বাঁশফোর হত্যার বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন
সুনীল বাঁশফোর হত্যার বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) বগুড়া জেলা শাখা।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিডিইআরএম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শিপন কুমার রবিদাস। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার রাজভর।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জয়পুরহাট জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবুল রবিদাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি কমরেড আমিনুল ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, হাসান আলী শেখ, সাজেদুর রহমান ঝিলাম, অখিল পাল, অ্যাডভোকেট শ্যামল বর্মণ, বিজয় চন্দ্র দাস, স্বাধীন চন্দ্র রবিদাস, হৃদম গোস্বামী বিভো, বিজন কুমার মন্ডল, অতুল চন্দ্র দাস, রিনা রানী রবিদাস ও ফুলো রানী রবিদাসসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে সুনীল বাঁশফোরের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন মো. অনিক নামে এক ব্যক্তি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পেট ও উরুতে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সুনীল বাঁশফোর বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোরের ছেলে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানা-য় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার ২২ দিন পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত মো. অনিকসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুনীল বাঁশফোর হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. বগুড়া শহরের চারটি হরিজন কলোনীকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশের নাগরিক। তাদের জীবন, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এজন্য প্রশাসন, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
