স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় হিরো আলমের জামিন
সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আলী আজগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিকেলে জামিনে কারামুক্ত হয়ে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পারেনি। আজ আমি জামিন পেয়েছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় আমার অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরব।”
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়া থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শাজাহানপুর থানার সামনে গাড়ি থামিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। এরও আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক মামলার শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হিরো আলমের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এবং অপরটি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেন। ওই দিন আদালতের বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শুনানি শেষে তিনি ওই মামলায় জামিন পান।
এদিকে প্রথম স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সুমিকে নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালে হিরো আলমের বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে এবং সাদিয়া আক্তার সুমি অন্যত্র বিয়ে করেন। তবে এ মামলায় জামিনে থাকলেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার কথা জানান এবং আগামী ধার্য তারিখে আপসের কাগজপত্র দাখিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই দিন পর্যন্ত তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের বিশেষ পিপি আলী আজগর বলেন, “হিরো আলম দুদিন আগে ধর্ষণের মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। তবে সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। বুধবার ওই মামলায়ও জামিন পাওয়ায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন। আদালত আগামী ধার্য তারিখে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আপসের কাগজপত্র দাখিলের শর্তে তাকে জামিন দিয়েছেন।”
