প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৪

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে প্রশাসনে রদবদল করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে প্রশাসনে রদবদল করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে উপনির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পাঁচ দফা দাবি জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বর্তমান সরকার বগুড়ার প্রশাসনে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকার কথা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বদলি বা নতুন পদায়ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৪ মার্চের এক পত্রের মাধ্যমে বগুড়ার পুলিশ সুপারকে অন্যত্র বদলি করেছে। এছাড়া একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলির জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুমতি চেয়েছে।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনে রদবদলের একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু কমিশনের চাহিদা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি করছে। এতে সংবিধানের বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আবিদুর রহমান সোহেল আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সরকারের মন্ত্রী বা সমপদমর্যাদার কেউ কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। কিন্তু গত ৮ মার্চ স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার নাজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এভাবে আইন লঙ্ঘন চলতে থাকলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন আবারও ‘দ্বিতীয় মাগুরা’র মতো হবে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে উপনির্বাচনকে অবাধ, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান জামায়াত প্রার্থী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রশাসনের সব ধরনের বদলি বাতিল করে স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকা ভোট কর্মকর্তাদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ভয়ভীতি, কালো টাকার দৌরাত্ম্য ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সেক্রেটারি আসম আব্দুল মালেক, জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, হেদায়তুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া ও ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপরে