প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০২

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত

আহত অন্তত ৬৬, সিগন্যাল অমান্যের অভিযোগ; সহকারী স্টেশন মাস্টার সাময়িক বরখাস্ত
আদমদীঘি বগুড়া সংবাদদাতাঃ
সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত

বগুড়ার সান্তাহার জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর চারটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালিয়ে অন্তত ৪৮ জনকে উদ্ধার করে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ৬৬ জন। নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আরও অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সিগন্যাল অমান্য ও গতি নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় বাসিন্দা, রেলকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা (ব্যানার) ও সতর্ক সংকেত দেওয়া ছিল। তবে ট্রেনটির চালক সেসব সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে মেরামতাধীন লাইনে প্রবেশ করেন।

একজন ওয়েম্যান জানান, কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল দেওয়া থাকলেও চালক তা মানেননি। এমনকি হাতের সংকেতও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী ও ঝুঁকি

ঈদ উপলক্ষে ট্রেনটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। অনেক যাত্রী ছাদে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ছাদ থেকে পড়ে অনেকেই আহত হন।

যোগাযোগ বন্ধ, একাধিক ট্রেন আটকা

দুর্ঘটনার কারণে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহাম্মেদ হোসেন মাসুম জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে।

এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

উদ্ধার ও চিকিৎসা

আহতদের আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, অনেকের হাত-পা ভাঙা ও মাথায় আঘাত রয়েছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেরামতাধীন লাইনে প্রবেশের সময় যথাযথ সিগন্যাল অনুসরণ না করা, অতিরিক্ত গতি এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সম্মিলিত প্রভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্বতীপুর ও ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এনে দ্রুত লাইন সচল করার কাজ চলছে।

উপরে