বগুড়ার সান্তাহারে গৃহবধূকে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক একটি বাসায় নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সান্তাহার শহরের পূর্ব লোকো কলোনী এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আদমদীঘি থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—সান্তাহার পোস্ট অফিস পাড়ার নুর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আব্দুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), পূর্ব লোকো কলোনীর তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) এবং একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)। অপর এক আসামি আজান আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে পূর্ব লোকো কলোনীর একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ২২ এপ্রিল পাশের বাসার এক তরুণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ১১টার দিকে আইয়ুব আলী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে সান্তাহার রেলগেট এলাকার একটি দোকানে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা দম্পতিকে মারধর করে। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে গৃহবধূকে জোরপূর্বক একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুইজন আসামি কক্ষে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়।
পরদিন সকালে স্বামী ও স্বজনরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, “গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
