প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬ ০২:২১

১৯ বছর পর সামনে এলো মহাস্থান জাদুঘরের মূর্তি রহস্য, তদন্তে ৯ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ বছর পর সামনে এলো মহাস্থান জাদুঘরের মূর্তি রহস্য, তদন্তে ৯ সদস্যের কমিটি

ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানোর পর হারিয়ে যায় একটি প্রত্নমূর্তি। এরপর বাতিল হয়ে যায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। দেশে ফিরিয়ে আনা হয় মহাস্থান জাদুঘরের ৪৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তবে দীর্ঘ ১৯ বছরেও ফেরত আসা মূর্তিগুলো আসল নাকি নকল—তা যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী Mir Shahe Alam। এরপর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও প্রশ্ন—বাংলাদেশ কি মূল্যবান প্রত্নসম্পদ হারিয়েছে?

সোমবার (১১ মে) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৭ সালে ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশের তিনটি জাদুঘর থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে মহাস্থান জাদুঘরের ৪৭টি মূর্তিও ছিল। প্রথম চালান পাঠানোর পর দ্বিতীয় চালানের সময় বিমানবন্দর থেকে একটি মূর্তি হারিয়ে যায়। পরে পুরো প্রদর্শনী বাতিল করা হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফেরত আসা মূর্তিগুলো আদৌ আসল কি-না, তা কখনো যাচাই করা হয়নি। বর্তমানে কিছু মূর্তি প্রদর্শনীতে থাকলেও বাকি নিদর্শনগুলো জাদুঘরের পাশের স্টোররুমে রয়েছে, যা কাউকে দেখতে দেওয়া হয় না।”

প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের তথ্যমতে, মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগের বহু মূল্যবান নিদর্শন এখান থেকে উদ্ধার হয়েছে। এসব মূর্তির অনেকগুলো ছিল বিরল পাথর খোদাই শিল্পকর্ম, যেগুলোর বয়স হাজার বছরেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক কালোবাজারে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন প্রত্নমূর্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একটি আসল প্রত্নমূর্তির মূল্য কয়েক কোটি টাকা থেকে শতকোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও। বগুড়া লেখক চক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বকুল বলেন, “দেশের প্রত্নসম্পদ বিদেশে প্রদর্শনের পর ফেরত এলো, অথচ সেগুলো আসল না নকল তা যাচাই হয়নি—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

এদিকে ঘটনা তদন্তে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

কমিটি যাচাই করবে—

বিদেশে পাঠানো ৪৭টি মূর্তি সম্পূর্ণ ফেরত এসেছে কি-না

ফেরত আসা নিদর্শনগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা

বিমানবন্দর থেকে হারানো মূর্তিটি মহাস্থানের ছিল কি-না

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি-না

প্রতিমন্ত্রী Mir Shahe Alam বলেন, “এটি হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও উপস্থাপন করা হবে।”

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

উপরে