প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ ০১:২২

বগুড়ায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন হলো আধুনিক জেলা কসাইখানা, ঘণ্টায় ১৫ গরু- ৩০ টি ছাগল

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন হলো আধুনিক জেলা কসাইখানা, ঘণ্টায় ১৫ গরু- ৩০ টি ছাগল
আধুনিক কসাইখানার পরীক্ষামূলক পশু যবাই কার্যক্রম। ছবি- সংগৃহীত
বগুড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক জেলা কসাইখানার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় কসাইখানাটির উদ্বোধন করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। পরে এটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেসের আওতায় ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় ৫০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা এই আধুনিক কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কসাইখানাটি চালু হলে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ কমবে এবং মাংস ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও কম থাকবে।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ কসাইখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ৩০ মার্চ নির্মাণকাজ শেষ হয়। বর্তমানে এটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম চালু হয়নি।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পর কসাইখানাটি চালু করা হবে। এখানে জবাইকৃত মাংসে সিটি করপোরেশনের সিল দেওয়া হবে এবং সিলবিহীন মাংস না কেনার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করা হবে।

তিনি আরও জানান, কসাইখানাটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পরিচালন ব্যয় হতে পারে। এছাড়া ৩০টি গরু প্রসেস করা গেলে প্রতিটি গরুর জন্য আনুমানিক এক হাজার টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতদিন বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করা হতো। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করছেন।

উপরে