‘ত্রাণ নয়, যমুনা ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চাই’—ধুনটে মানববন্ধন
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা নদীর তীর এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকার ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লেই প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তাদের দাবি, চলতি শুকনো মৌসুমে নদীর চরে প্রায় দুই হাজার জিও ব্যাগে বালু ভরাট করা হলেও হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুল করিম, তৌহিদুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ১২টি গ্রাম ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বহু পরিবার জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হলে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।
তারা আরও বলেন, ১৫-১৬ বছর আগে বোল্ডার ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নদীর ডান তীর সংরক্ষণের কাজ করা হলেও পরবর্তীতে শুধু বর্ষা মৌসুমে সাময়িক সংস্কারকাজ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বগুড়া কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল জানান, কাজ চলাকালে হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরের মধ্যে থাকা দুই শতাধিক জিও ব্যাগ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে ভাঙনরোধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
