প্রকাশিত : ৮ জুন, ২০২৬ ০১:১৯

৬ দফা দাবিতে শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ দফা দাবিতে শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। এ উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।

আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন সংক্রান্ত বিতর্কিত নীতিমালার প্রস্তাবনা বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ, নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন।

মানববন্ধনে শজিমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি নিয়ামুল বলেন, “শুধু শজিমেক নয়, দেশের সব মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আজ একযোগে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। আমাদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা এবং মিড-লেভেল ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, তাই দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”

আন্দোলনে অংশ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক উপমা বলেন, “আমাদের পেশা সেবামূলক। আমরা চাই না আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ুক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকরা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো কার্যকর কোনো আইন বাস্তবায়ন হয়নি।”

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাফিউন জান্নাত জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে দেশব্যাপী সমন্বিতভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

উপরে