প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ ১০:২১

জমি বিরোধে মুখোমুখি ভাই-বোন, চাঁদাবাজি মামলায় ভাই গ্রেপ্তার

সারিয়াকান্দি, বগুড়া সংবাদদাতাঃ
জমি বিরোধে মুখোমুখি ভাই-বোন, চাঁদাবাজি মামলায় ভাই গ্রেপ্তার

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদাবাজির এক মামলায় আতাউর রহমান ওরফে গোল্লা ফকির (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারকৃতের পরিবারের দাবি, জমি বিরোধের জেরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. ফেরদৌসি বেগম সম্প্রতি সারিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ফুলবাড়ী মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর দাবি, ১৯৯৯ সালে তাঁর স্বামী মো. আতাউর রহমান পিতা মৃত জোব্বার হোসেনের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং পরে তা তাঁর নামে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিটি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে জমির পরিমাণ নিয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে একই বিরোধের ঘটনায় ফুলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. জুলফিকার রহমানের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি, নির্মাণকাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আতাউর রহমান ও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জুলফিকার রহমান তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে আতাউর রহমান সেখানে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতাউর রহমানের পরিবারের সদস্যরা। তারা দাবি করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ফ.ম. আছাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে কারও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জের ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপরে