বগুড়া নয়, সর্বোচ্চ এলজিইডি বরাদ্দ পেয়েছে কুমিল্লা: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
বগুড়া জেলা সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ পেয়েছে— এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, গত তিন মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা জেলায়। বরাদ্দের তালিকায় বগুড়ার অবস্থান ১৬তম।
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের এনসিবির কুড়িগ্রাম-নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ সংসদে দাবি করেছেন, বর্তমানে ‘সবার আগে বগুড়া’ নীতি অনুসরণ করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ বক্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়।
তিনি বলেন, “১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এলজিইডির সর্বোচ্চ ৩৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কুমিল্লা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নরসিংদী, যেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৬৩ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে বাগেরহাট পেয়েছে ২২৫ কোটি টাকা। গোপালগঞ্জ রয়েছে সপ্তম স্থানে ১৭৩ কোটি টাকা নিয়ে। কুড়িগ্রাম নবম স্থানে ১৬৫ কোটি টাকা এবং বগুড়া ১৬তম স্থানে রয়েছে ১৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে।”
মীর শাহে আলম বলেন, বিগত দুই দশকে বগুড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। এখন সরকার বৈষম্য না করে সারা দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি এ সংসদের মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাই, বগুড়াকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘ ২০ বছরে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা উচিত।”
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বণ্টনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বৈষম্য করা হয়নি। বরাদ্দের ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বগুড়া শীর্ষে নয়। সেখানে কক্সবাজার সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। ফলে বগুড়াকে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
