যানজট নিরসনে বগুড়া শহরে ফুটপাত দখলমুক্তে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান
বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন। অভিযানের প্রথম দিনে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও জেলা স্কুল সংলগ্ন এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান, ভ্যান ও অবৈধ স্থাপনা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন নগরবাসীকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও চলাচলবান্ধব শহর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই অংশ হিসেবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার এ অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, “নাগরিক ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ ফুটপাত দখল। জেলা স্কুল ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়ক ব্যবহার করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, ফুটপাত দখলের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর স্থায়ী দোকান থাকা সত্ত্বেও অধিক লাভের আশায় তারা ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রথম দিনে আমরা সতর্কতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।”
ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পপি খাতুন বলেন, “খুব শিগগিরই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ফুটপাত পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি করবেন।”
সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসীর একাংশ। তবে অনেকেই মনে করছেন, একদিনের অভিযানে স্থায়ী সমাধান হবে না; নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে তবেই শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
