প্রকাশিত : ৩ জুলাই, ২০২৬ ০০:৫৩

ছাত্রীকে একান্তে দেখা করার কু’প্রস্তাব, অভিযোগে গণপিটুনি খেয়ে গ্রেপ্তার হলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

আদমদীঘি বগুড়া সংবাদদাতাঃ
ছাত্রীকে একান্তে দেখা করার কু’প্রস্তাব, অভিযোগে গণপিটুনি খেয়ে গ্রেপ্তার হলেন মাদ্রাসা শিক্ষক
অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান। ছবি- সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর বার্তা ও একান্তে দেখা করার প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হন তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নশরতপুর ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোনে একান্তে দেখা করার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠাতেন মাহমুদুল হাসান। এতে বিরক্ত হয়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।

মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদ্রাসায় এলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বিকেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আদমদীঘি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উপরে