পিরানহা মাছ খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, তবে চাষ ও বিপণন নিষিদ্ধ—ব্যাখ্যা দিলেন মৎস্য কর্মকর্তা
পিরানহা মাছ খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিবেশ ও দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষায় এর চাষ, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাহালু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নূর নবী।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিরানহা মাছের চাষ, উৎপাদন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপণন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
মো. নূর নবী আরও জানান, পিরানহা মাছ অত্যন্ত মাংসাশী ও রাক্ষুসে স্বভাবের। এটি জলাশয়ের ছোট মাছ, পোনা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে ফেলে, ফলে স্থানীয় মাছের প্রজনন ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে পুষ্টিগুণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিরানহা মাছ প্রোটিনসমৃদ্ধ, যা শরীরের কোষ পুনর্গঠন ও পেশি শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে ভিটামিন ‘এ’, ‘ডি’ এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়, যা হাড় ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য উপকারী।
তিনি বলেন, এসব পুষ্টিগুণ থাকলেও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে এর চাষ ও বিপণন আইনত নিষিদ্ধ। তবে খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
