টানা ছয় ঘণ্টার বৃষ্টিতে বগুড়া শহর জলমগ্ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে প্রশাসক
টানা ছয় ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরে ৭৯ মিলিমিটার এবং সারাদিনে মোট ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে শহরের সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে রাতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ সময় তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক জলাবদ্ধ এলাকায় নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তার এই তাৎক্ষণিক তৎপরতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের কোথায় কোথায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলেন।
এ বিষয়ে এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, “বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়। এটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো সমস্যা। আমি নগরবাসীর কাছে তিন মাস সময় চেয়েছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শহরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে ভরে গেছে। ফলে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। বগুড়াকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বগুড়া সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। তবে তার মধ্যেই ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
