প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:৫৭
বগুড়া-০৪ আসনে উন্নয়নের প্রশ্নে এক টেবিলে মোশারফ-ফয়সাল
নন্দীগ্রাম বগুড়া সংবাদদাতাঃ
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কাহালু-নন্দীগ্রামের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে দল-মতের ঊর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপি'র (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আসরের নামাজের বিরতির সময় একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ধারাবাহিকতায় দুই নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কিছু সময় একসঙ্গে কাটান এবং চা পান করেন। এ সময় কাহালু-নন্দীগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং জনকল্যাণে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
সাক্ষাৎ শেষে আলহাজ মোশারফ হোসেন বলেন, সম্মান দেওয়ার মালিক মহান আল্লাহ। নির্বাচনে আমরা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাহালু-নন্দীগ্রামের উন্নয়ন, শান্তি এবং মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে বিভক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এলাকার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক নেতার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলহাজ মোশারফ হোসেন কাহালু ও নন্দীগ্রামে সড়ক, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলছে। তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় থেকে উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছেন, এবং কাহালু-নন্দীগ্রামকে আরও এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দেখতে চান।এদিকে দুই নেতার এ সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এমন উদ্যোগ কাহালু-নন্দীগ্রামের উন্নয়ন এবং মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
