‘দস্যু বনহুর’খ্যাত রোমেনা আফাজের সাহিত্যকর্ম গবেষণার আওতায় আনার আহ্বান
‘দস্যু বনহুর’খ্যাত কথাসাহিত্যিক রোমেনা আফাজের সাহিত্যকর্ম গবেষণার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্যিকেরা। একই সঙ্গে তাঁর নির্বাচিত সাহিত্যকর্মের সংকলন প্রকাশে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তাঁরা।
রোমেনা আফাজের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রাবন্ধিক ও গবেষক মোহাম্মদ আজম বলেন, রোমেনা আফাজ ভাষা ও লেখার ফর্ম নিয়ে সমালোচিত হলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক। তাঁর লেখার মাধ্যমে ষাট, সত্তর ও আশির দশকে বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে উঠেছিল। তাই রোমেনা আফাজের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্বসাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র শার্লক হোমসকে নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা হচ্ছে। একইভাবে রোমেনা আফাজের সৃষ্ট চরিত্র ও সাহিত্যকর্ম নিয়েও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
সেমিনারে জানানো হয়, রোমেনা আফাজের সিরিজ, উপন্যাস, ছোটগল্প ও কাব্যগ্রন্থসহ প্রায় ২৫০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের ১৩৮টি এবং ‘দস্যুরাণী’ সিরিজের ১২টি বই রয়েছে। তাঁর ছয়টি বই অবলম্বনে ‘কাগজের নৌকা’, ‘মোমের আলো’, ‘মায়ার সংসার’, ‘মধুমিতা’, ‘মাটির মানুষ’ ও ‘দস্যু বনহুর’ নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
সেমিনারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, রোমেনা আফাজের সৃষ্টিকে গবেষণার আওতায় আনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তাঁর নির্বাচিত সাহিত্যকর্ম প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংকলন আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
কথাসাহিত্যিক তানজিনা হোসেন বলেন, ষাট থেকে আশির দশকে রোমেনা আফাজের বই পড়েননি—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে গোয়েন্দা ও রহস্যকাহিনি লেখক হিসেবে তিনি মূলধারার সাহিত্যিক স্বীকৃতি পাননি।
সেমিনারে রোমেনা আফাজের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা, প্রবন্ধ উপস্থাপন, তাঁর লেখা থেকে পাঠ এবং একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়া জেলার শেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। ১৯৮৫ সালে সিরিজটির ১৩৮তম খণ্ড প্রকাশের মাধ্যমে তিনি এ সিরিজের লেখালেখি শেষ করেন। ২০০৩ সালের ১২ জুন তিনি মারা যান। ২০১০ সালে তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন রোমেনা আফাজের ছেলে মন্তেজুর রহমান। তিনি তাঁর মায়ের সাহিত্যকর্মের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পর তাঁর মা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
তিনি জানান, বগুড়ায় রোমেনা আফাজ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘রোমেনা আফাজ স্মৃতিঘর’ পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে তাঁর পাণ্ডুলিপি, প্রকাশিত বই, ব্যবহৃত সামগ্রী, আলোকচিত্র ও ভক্তদের লেখা চিঠি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
