নন্দীগ্রামে গাছ ব্যবসায়ীকে গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে সোপর্দ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে হোসেন আলী (৩৫) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীকে গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হোসেন আলী নন্দীগ্রাম পৌর সদরের কলেজপাড়া মহল্লার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের পুরাতন বাজার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মোড়ে মাদক সেবনের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব বাবু রফিক (২৮) আহত হন।
পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় হোসেন আলীকে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করে কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তবে হোসেন আলীর পরিবারের দাবি, তাঁকে মারধরের পর ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক এক কাউন্সিলরের বাসার সামনে সন্দেহজনক অবস্থায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন বলেন, হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে কলেজপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করতেন। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে ৫০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নন্দীগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজু কামাল বলেন, স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় হোসেন আলীকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
