প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:১৪

বগুড়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ‘মা-বাবার দোয়া’ পাখির দোকান, নিঃস্ব ব্যবসায়ী

বগুড়া সংবাদদাতাঃ
বগুড়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ‘মা-বাবার দোয়া’ পাখির দোকান, নিঃস্ব ব্যবসায়ী

বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় আবহাওয়া অফিসের কাছে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামে একটি পাখির দোকানে অগ্নিকাণ্ডে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ পাখি ও কবুতর পুড়ে মারা গেছে। এ সময় দোকানে থাকা পাখির খাদ্য, ওষুধ, খাঁচা, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানের মালিক সবুজ ইসলাম শুভ। তাঁর দাবি, দোকানটিতে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দোকানের মালিক ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, দোকানের ভেতরে থাকা অধিকাংশ পাখি ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খাঁচাবন্দি থাকায় অনেক পাখি আগুন থেকে বের হতে পারেনি।

দোকান মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনে সানকুনুর, গোল্ডেন ফিঞ্চ, লাভবার্ড, ককাটেল, বাজরিগার, নন-ফিশার লাভবার্ডসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পুড়ে মারা গেছে। এ ছাড়া লাক্কা, সিরাজি, গিরিবাজ, কিং, ফ্যানটেইল, কোবা, হোমার, রেসার, বোম্বাই ও পাকিস্তানি জাতের প্রায় ৬০ জোড়া কবুতরও পুড়ে মারা যায় বলে তিনি জানান। পাখির খাদ্য, ওষুধ, খাঁচা ও অন্যান্য সরঞ্জামও আগুনে পুড়ে যায়।

দোকান মালিক সবুজ ইসলাম শুভ বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান গুছিয়ে তালা দিয়ে বাসায় চলে যাই। শনিবার ভোরে স্থানীয় একজন ফোন করে দোকানে আগুন লাগার খবর দেন। দ্রুত এসে দেখি, আমার জীবনের সব স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আমরা ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেছিলাম, কিন্তু তখন কোনো সাড়া পাইনি। দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া গেলে হয়তো কিছু পাখি ও মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হতো।’

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সবুজ ইসলাম শুভ বলেন, ‘মাত্র ছয়-সাত মাস আগে অনেক কষ্ট করে দোকানটি চালু করি। এখানে প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ ছিল। আগুনে অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার পাখি ও মালামাল নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো সামর্থ্যও নেই।’

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি নাশকতা কি না, তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আমি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরের দিকে দোকান থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখে তাঁরা ছুটে যান। পরে পানি ও স্থানীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানের ভেতরে থাকা অধিকাংশ পাখি ও কবুতর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানটি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছিল। আগুনে এক তরুণ উদ্যোক্তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।

উপরে