প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩৩

বিতর্কের মুখে বগুড়ার তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিতর্কের মুখে বগুড়ার তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন

ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে অবশেষে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে মিল থাকার অভিযোগ ওঠা ইউনিয়ন তিনটির নতুন নাম প্রস্তাব করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ‘বেতগাড়ী ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। এছাড়া মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের নাম ‘জগন্নাথপুর’ এবং ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম ‘রহবল’ রাখা হয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি দ্রুত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নতুন নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নাম ঘোষণার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ ওঠে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘মীরবাড়ি’ এবং তাঁর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়। তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নামকরণকে কাকতালীয় বলে দাবি করেছিলেন।

পরবর্তীতে গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন গত ২৩ ও ২৫ জুন দুই দফায় গণশুনানির আয়োজন করে। গণশুনানিতে স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন তিনটির নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়।

এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর নতুন নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

উপরে