প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩৬

মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত এলাকায় উন্নয়নকাজ বন্ধের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি মঙ্গলবার

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ
মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত এলাকায় উন্নয়নকাজ বন্ধের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি মঙ্গলবার

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ, স্থাপনা নির্মাণ ও মাটি খনন বন্ধ রাখার নির্দেশনা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া রায় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ৫ মার্চ দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে চলতি মাসে সরকারপক্ষ বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ লিভ টু আপিল করে। এতে ৫ হাজার ২৭৯ দিনের বিলম্ব মার্জনা চাওয়ার পাশাপাশি হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।

গত ১৪ জুলাই লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। পরে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রাখা হয়েছে।

মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট করে স্থাপনা নির্মাণ, মাজার সম্প্রসারণ ও প্রত্নস্থলে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের দাবিতে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১০ সালের শেষ দিকে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন, মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং প্রত্নস্মারক এলাকার পূর্ব পাশে ২০০ ফুট দূরে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আগের রিটের সূত্র ধরে ২০২০ সালে এইচআরপিবি একটি আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৫ মার্চ হাইকোর্ট স্থানীয়দের মাটি খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েনসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন।

সরকারের করা লিভ টু আপিলে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশের কারণে দীর্ঘদিন মহাস্থানগড় এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহাসিক স্থানটিকে দর্শনার্থীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নও করা যায়নি। পাশাপাশি মহাস্থানগড় মসজিদের উন্নয়নে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও হাইকোর্টের আদেশের কারণে উন্নয়নকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপরে