বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে দুইজন আটক
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
নিহত রাজু (৭) শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের আলমের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে একই গ্রামের মো. মুস্তাকিন (২৪) ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানে করে রাজুকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বুধবার শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন শিশুটির স্বজনরা।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুস্তাকিন ও করিম নামে দুইজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভ্যান চুরির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে এবং বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে হত্যার কথা জানিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, আটক করিমের শ্বশুরবাড়ি ওই এলাকায়। সেখান থেকে চুরি হওয়া ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির বাম পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রাজুর লাশ উদ্ধারের খবর ররোয়া গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন মুস্তাকিনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। তবে ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
