বগুড়ায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্ক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী এতদিন জেলাটির উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বগুড়ায় ৪০০ একর জমির ওপর নতুন একটি বিসিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বগুড়া সবার আবেগের কেন্দ্র। জরিপে এ অঞ্চলের শিল্পোন্নয়নের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি উঠে এসেছে। বগুড়ার শিল্প ও ব্যবসার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ২০ বছর বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বগুড়ার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে তার অবদান কোনোদিন ভোলার নয়। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই বগুড়ার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বগুড়ায় উৎপাদিত পণ্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি করে দেশ-বিদেশে যাচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন এ অঞ্চল অবহেলিত ছিল। এখন বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বগুড়ার ঘাটতি পূরণ করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আগামী মাস থেকে বগুড়ায় ড্রোন তৈরির কারখানার কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, করতোয়া নদীর পুনর্জীবন এবং তিনমাথা এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ‘ক্রীড়াগ্রাম’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ার ওপর দিয়ে ১৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ জেলা সমৃদ্ধ। গত ২০ বছর বগুড়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা অতিরিক্ত উন্নয়ন নয়, ২০ বছরের বঞ্চনার অবসান চাই।"
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন এবং বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বগুড়া চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
