প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৩১

ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতার দাবি বগুড়ার আরডিএর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতার দাবি বগুড়ার আরডিএর

বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতার দাবি করেছে পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি (আরডিএ)। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতে পারে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা।

রোববার (১৬ আগস্ট) বগুড়ার এরুলিয়ার বানদিঘী এলাকায় পরীক্ষামূলক প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালিয়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে কম খরচের এই প্রযুক্তি দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফলতার পর এবার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এরুলিয়ার প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

পরিদর্শনকালে আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতে পারে মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা। সার্বক্ষণিকভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে, সেখানে এ প্রযুক্তিতে একই ক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হলেও ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রকল্পটি ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু ট্রাস্টে জমা দেওয়া হয়েছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ প্রকৌশলী ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রযুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। ২০২৫ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

পরীক্ষামূলক প্ল্যান্টের কার্যকারিতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রযুক্তিটিকে আরও বড় পরিসরে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে বগুড়ার স্থানীয় মেশিনারি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।

উপরে