প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৫৮

বগুড়ায় ক্লিনিকে ভুয়া নার্স ও অদক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় ক্লিনিকে ভুয়া নার্স ও অদক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকা, ভুয়া সনদের নার্স ও অদক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণার অভিযোগে ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নন্দীগ্রাম পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল। এ ছাড়া ভুয়া সনদের নার্স দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া, চিকিৎসায় ভুল এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না রেখে মূলত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছিল।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের পরিচালক দিনা পারভীনকে ১০ হাজার টাকা, সেবা হসপিটালের নুসরাত জাহানকে ৩০ হাজার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নন্দীগ্রাম ইসলামিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মঞ্জুরুল ইসলামকে ৫ হাজার এবং হেলথ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আল মাসুদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং স্যালাইন, ইনজেকশন ও ড্রেসিং করার অভিযোগে আব্দুল কাদেরকে ২০ হাজার ও আব্দুর রশিদকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার বলেন, ক্লিনিকগুলোর প্রসূতি ও অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকা, হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চারটি ক্লিনিক ও দুটি ফার্মেসিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সরকারি হাসপাতালে জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ক্লিনিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

উপরে