প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৩

বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ায় নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আসামি তার কিশোরী মেয়েকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। তদন্ত চলাকালে আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, কোনো বাবার কাছে যদি তার সন্তান নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন। সমাজে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে, যা অপরাধ দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে।

বগুড়ার শেরপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বর্তমান কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। আদালত আসামির উপযুক্ত বিচার করেছেন। রায় ঘোষণার পর তাকে সাজা পরোয়ানামূলে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপরে