প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৫৮

এক পা হারিয়েও এসএসসিতে জিপিএ-৫, মাহফুজের পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক পা হারিয়েও এসএসসিতে জিপিএ-৫, মাহফুজের পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী

 পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছিল মাহফুজ। থমকে যেতে পারত তার পুরো জীবন। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি স্বপ্নের পথে তার অদম্য যাত্রা। একটি পা হারিয়েও ক্রাচে ভর করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। প্রতিকূলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অর্জন করেছে জিপিএ-৫।

মাহফুজের এই সাফল্যের গল্প নজর কেড়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। বুধবার (২৬ আগস্ট) বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মাহফুজের উচ্চশিক্ষা শেষ করা এবং চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত খরচে মাহফুজকে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

মাহফুজ শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ২৩৩ জন জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মাহফুজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘মাহফুজের জীবনের সংগ্রামের কথা শুনে আমরা তার ইন্টারমিডিয়েটসহ পুরো শিক্ষাজীবনের খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার যে স্বপ্ন, তার অংশ হিসেবেই আমরা অদম্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকালই মাহফুজকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে।’

ভবিষ্যতে দেশের শীর্ষ ১০টি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সব ছাত্রীকে বাইসাইকেল দেওয়ার ঘোষণাও দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছে মাহফুজের পরিবার ও শিক্ষকরা। কিচক আইডিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘মাহফুজ আমাদের স্কুলের অন্যতম মেধাবী ছাত্র ছিল। তার কাছ থেকে আমরা সর্বোচ্চটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। সে নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে আমরা শিক্ষকসমাজ তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

নিজের সাফল্য এবং প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় উচ্ছ্বসিত মাহফুজ। সে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে পড়াশোনা করতে চায়।

মাহফুজ বলে, ‘আমার এমন বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং পড়াশোনার সব দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। কৃত্রিম পা পেয়ে আমি নিজের পায়ে হেঁটে স্বপ্নের পথে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে চাই।’

অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র, বই-খাতা, মগ এবং ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা তুলে দেন অতিথিরা।

উপরে