প্রকাশিত : ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৩২

আদমদীঘির নসরতপুর গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত ও সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদমদীঘির নসরতপুর গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত ও সরবরাহ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর এলএসডি খাদ্য গুদামে সরকারি বিধি না মেনে বিভিন্ন জেলার চালকলের চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

জানা গেছে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত নারীদের মধ্যে প্রকল্পের চাল বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ করা চালের বস্তায় থাকা টেনসিলে দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল এবং ঠিকানাবিহীন মদিনা অটো রাইস মিল লেখা রয়েছে। কোনো কোনো বস্তায় আবার ‘পুষ্টি চাল’ লেখা টেনসিলও দেখা যায়। এসব বস্তার নিচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় চালগুলো কোথাকার এবং কোন মিলের তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিতরণ করা চাল কোন খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, বরাবরের মতো নসরতপুর এলএসডি থেকেই চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগীদের জন্য গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিতরণ করা বস্তার গায়ে ‘বোরো/২০২৫’ লেখা রয়েছে। বিতরণ করা চালের মধ্যে উপজেলার সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চাল তুলনামূলক ভালো মানের হলেও অন্য কয়েকটি বস্তার চাল নিম্নমানের ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাল প্রকল্পের আওতাভুক্ত না হলেও নসরতপুর এলএসডি থেকে সরবরাহ করা চালের মধ্যে ‘পুষ্টি চাল’ পাওয়া গেছে।

খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে স্থানীয়ভাবে অবস্থিত অটো, সেমিঅটো ও হাসকিং চালকল থেকে চাল সংগ্রহ ও মজুত করার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দিনাজপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চালকলের চাল এবং পুষ্টি চাল কীভাবে নসরতপুর খাদ্য গুদামে সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নসরতপুর এলএসডিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এমনটা তো হওয়ার কথা না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।’ বিস্তারিত জানতে ২৭ আগস্ট তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি বগুড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে থাকার কথা জানান।

উপরে