ভুল ইনজেকশনে বাবার মৃত্যু, বিচার চেয়ে মানববন্ধন
বাবার চিকিৎসায় ভুল ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করার পর উল্টো হামলা, মারধর ও মামলায় স্বজনদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন বগুড়ায় নিহত আব্দুল মালেকের পরিবার। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও গ্রেপ্তার ছয়জনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া মহানগরীর বিসিক জেলা কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত আব্দুল মালেকের মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, বাবাকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তাঁর তীব্র অস্থিরতা শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। পরে চিকিৎসার ফাইল পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান, আব্দুল মালেকের পরিবর্তে ‘ইখলাস’ নামের অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
মনিকা অভিযোগ করেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের জানালে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তা স্বীকার না করে স্বজনদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাঁর ছেলে ও তাঁর বন্ধুদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার এবং গ্রেপ্তার হওয়া সন্তানদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
কর্মসূচিতে গ্রেপ্তার প্রান্তের মা নাজনীন আক্তার ও নাফিউলের স্ত্রী মিতু খাতুন অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ১৫-১৬ জন আহত হওয়ার দাবি করা হলেও তাঁদের কাউকে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তাঁরা গ্রেপ্তার ছয়জনের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন।
এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহারও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারটি জানায়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে ছাত্রদলের পাঁচ নেতা ছিলেন বলে জানা যায়। পরে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত এবং আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়।
প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের পর চার দফা দাবিতে চলা কর্মবিরতি স্থগিত করে শুক্রবার দুপুর থেকে সাময়িকভাবে কাজে ফেরেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
