প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৯

বগুড়ায় ১০৩ বুনো টিয়া মুক্তি পেল, উড়াল দিলো খোলা আকাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় ১০৩ বুনো টিয়া মুক্তি পেল, উড়াল দিলো খোলা আকাশে

বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে খাঁচাবন্দি অবস্থায় ১০৩টি বুনো টিয়া পাখি উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাখিগুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়।

পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক টিয়া পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১১টার দিকে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী ‘আল বারাকা ট্রাভেলস’ নামের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়।

এ সময় বাসের সাইড বক্সের ভেতর ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা জানান, উদ্ধার হওয়া পাখিগুলোর মধ্যে ‘মেথ টিয়া’ ও ‘লাল মাথা টিয়া’ প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব টিয়া মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি এলাকার বুনো পাখি। খাদ্যের সন্ধানে বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচক্ষেতে এলে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পাখিগুলো ধরে অবৈধভাবে কেনাবেচা ও পাচারের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা সম্ভব হয়নি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বুনো টিয়া ধরা, কেনাবেচা বা পাচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে বাসটি আটকানোর আগেই পাখি বহনকারী ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া গেছে। ওই নম্বরের সূত্র ধরে পাখি পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা করা হবে।

উপরে