চলতি মাসেই করতোয়া খনন শুরু, ‘নতুন বগুড়া’ দেখার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
চলতি নভেম্বর মাসেই বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী খননকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মানুষ একটি নতুন বগুড়া দেখতে পারবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার এসপি ঘাট এলাকায় করতোয়া নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার তিনটি নদী ও সংশ্লিষ্ট খাল খননের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার খনন করা হবে। প্রথম ধাপে ছয় কিলোমিটার খননকাজের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে অবশিষ্ট অংশের কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, খননকাজ শেষ হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
সারা দেশে নদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সমস্যা রয়েছে। নদীগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপ করে কোথা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে এবং কোথায় যাবে না, সে বিষয়ে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন বা অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সেসব স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।
করতোয়া নদী পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা যুব ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কর্মসূচির শুরুতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় যুব ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বগুড়ার যৌথ আয়োজনে যুব ভবনের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী যুবকদের মধ্যে ঋণের চেক ও যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ বিতরণ করেন। এ ছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক ও সফল উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। সভায় যুবসমাজের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
