হারিয়েছিল একটি ছাগল, ৮৩ দিন পর ফিরে পেলেন চারটি
প্রায় তিন মাস আগে হারিয়ে গিয়েছিল একটি গর্ভবতী ছাগল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সেটির সন্ধান পাননি মালিক। অবশেষে ছাগলটির সন্ধান মিলল বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। তবে ছাগল নিতে এসে মালিকের হাতে উঠেছে চারটি ছাগল। কারণ, কার্যালয়ে আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ছাগলটি জন্ম দিয়েছে তিনটি বাচ্চা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম কার্যালয় চত্বরে ছাগল চারটি প্রকৃত মালিক শামছুন্নাহারের হাতে তুলে দেন। এ সময় বিএনপি নেতা মোকলেছুর রহমান, জাসাস নেতা রেজাউল করিম বাপ্পী, স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন, বাবুলসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সেবনের পর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগর এলাকা থেকে একটি ছাগল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় চার ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। পরে ওই দিন বিকেলে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জেল-জরিমানা করার পর চোরাই ছাগলটি নিয়ে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। একপর্যায়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ছাগল চুরির কথা স্বীকার করেন।
তারা জানান, নেশা করে ফেরার পথে রাস্তার পাশে ছাগলটি দেখতে পেয়ে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ছাগলটি ঠিক কোন এলাকা থেকে চুরি করেছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অনুমানের ভিত্তিতে আদমদীঘির কথা বলায় ওই দিন সন্ধ্যায় ছাগলটির দেখভালের জন্য সেটিকে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
এরপর শুরু হয় ছাগলটির নতুন অধ্যায়। কার্যালয়ে নেওয়ার পর ওই রাতেই ছাগলটি তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ছাগল ও বাচ্চাগুলোর দেখভালের দায়িত্ব নেন কার্যালয়ের কর্মচারী জিয়া। দীর্ঘ দুই মাস ২০ দিন ধরে তিনি যত্নসহকারে ছাগল চারটির পরিচর্যা করেন।
অবশেষে ছাগলটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগরের বালুকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামছুন্নাহার প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ছাগল নিতে আদমদীঘিতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক। যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম ছাগল ও তার তিনটি বাচ্চা শামছুন্নাহারের হাতে তুলে দেন।
সহকারী কমিশনার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাগলটির মালিকের সন্ধান করা হচ্ছিল। অবশেষে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিক শামছুন্নাহারের কাছে ছাগলগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।
ছাগল ফিরে পেয়ে শামছুন্নাহার বলেন, একটি ছাগল হারিয়ে চারটি ছাগল ফিরে পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ভেবেছিলেন, ছাগলটি আর ফিরে পাবেন না। একসঙ্গে চারটি ছাগল পেয়ে তাঁর কাছে ঘটনাটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
হারানো ছাগলটি প্রশাসনের কার্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া, সেখানে তিনটি বাচ্চার জন্ম এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর যত্ন নেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
