প্রকাশিত : ৫ মে, ২০২০ ০১:৩৬

বগুড়ায় চালের দাম কমলো বস্তায় ১০০ টাকা সরবরাহ কমলেও প্রভাব পড়েনি বাজারে

এইচ আলিম
বগুড়ায় চালের দাম কমলো বস্তায় ১০০ টাকা 
সরবরাহ কমলেও প্রভাব পড়েনি বাজারে

বগুড়ায় বাজারে চাল সরবরাহ নেমে এসেছে অর্ধেকে। আগে যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক চাল নিয়ে বিভিন্ন জেলায় চলাচল করতো এখন সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক চলাচল করছে। চালকল মালিকরা বলছেন, শুধু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কমছে এমন নয়, এখন মৌসুম না থাকায় চাল সরবরাহ কমে এসেছে। এর সাথে খুচরা বাজারে ও কৃষকের ঘরে চাল থাকায় বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি।

এদিকে বোরো ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় চালের মোকামগুলোতে বস্তা প্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকারও বেশি চালের দাম কমে এসেছে।
বগুড়ার চালকল মিলারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃষি এলাকা হওয়ার কারণে উত্তেরের জেলার মধ্যে বগুড়া জেলা ধান বা চাল উৎপাদনের বৃহত্তম। এ জেলায় বোরো ও আমন ধান উল্লেখযোগ্য হারে ফলন হয়ে থাকে। ভৌগলিকভাবে ও আবহাওয়া গত কারণে জেলাটি কৃষির জন্য আদর্শ বলা হয়ে থাকে। সারা দেশের মত বগুড়াতেও কিছু করোনা রোগী পাওয়া গেছে যার কারণে জেলায় এখন লক ডাউন চলছে। আর এই লক ডাউনের মধ্যে চালকল মালিকরা কিছুটা শ্রমিক সংকটে পড়েছে। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও পারিশ্রমিক গুণতে হচ্ছে বেশি। 

বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বলছেন, জেলায় প্রায় ৮০টি অটো রাইচ মিল এবং ২ হাজারের মত চাতাল রয়েছে। এরমধ্যে ২০ শতাংশ অটো রাইস মিল এবং ৮০ শতাংশ চাতাল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা চাতাল ও অটো রাইস মিলের শ্রমিকগুলো এখন বেকার হয়ে আছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনের প্রধান কারণ মনে করছেন মৌসুম না থাকা। বগুড়ায় বোরোর মৌসুম শুরু হবে ১৫ মে’র পর। এর সাথে শুরু হয়েছে করোনা ভাইরাসের শঙ্কা।

দুই মিলিয়ে এখন চালু থাকা চাতালগুলো বিভিন্নভাবে ধান সংগ্রহের পর চাল তৈরী করে বাজারে ছাড়ছে। তাছাড়া অনেকে আবার ঋণ নিয়ে হাওড় অঞ্চল থেকে ধান কিনে ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখছে। মৌসুম শুরু হলে বগুড়া অঞ্চল থেকে চাল সরবরাহ আবার আগের মত হয়ে যাবে। মিল মালিকরা বলছেন আগে জেলা থেকে ৮০০ টির মত ট্রাক চাল নিয়ে ঢাকা ও চট্রগ্রাম যেত এখন সেখানে ৪০০ টির মত ট্রাক চাল নিয়ে চলাচল করছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দুদু জানান, বগুড়া চাল উৎপাদনে অন্যতম জেলা। বগুড়া থেকে যে পরিমান উৎপাদন হয়ে থাকে তা চালের মৌসুম না হওয়ার কারণে এখন হচ্ছে না। যার কারণে ট্রাকে চালও বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে কম। মৌসুম শুরু হলে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। আগামী কয়েকদিন পর মিল ও চাতালগুলো সরব হয়ে উঠবে। তিনি বলেন আগে শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাকে করে চাল ঢাকায় যেতে।

এখন সেখানে সব্বোর্চ ১০ টি ট্রাকে করে চাল যাচ্ছে। বাজারে চালের মজুদ ঠিক থাকায় এবং কৃষকরে ঘরেও চাল থাকায় চালের কোন সমস্যা হচ্ছে না। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমান চাল আছে। যে কারণে চাল পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এটিএম আমিনুল হক জানান, অটো প্রায় ৮০ ও হাসকিং ২০০০ টির মত আছে। বন্ধ থাকার কারণে এই সংখ্যার দুই একটা কম বেশি হতে পারে। আগে জেলার দুপচাঁচিয়া ও আদমদিঘি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টির মত ট্রাকে করে চাল যেত চট্রগ্রাম ও ঢাকায়। এখন সেখানে প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক যাচ্ছে।

বগুড়া অঞ্চলে এখনো ধান কাটা সে ভাবে শুরু হয়নি। ভরা মৌসুমে চালকল মালিকদেরও মৌসুম শুরু হবে। তখন আবার চালের সরবরাহ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন আগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ ট্রাক চলাচল করতো। এখন সেখানে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক চাল নিয়ে যাচ্ছে। বাজারে এবং কৃষকের ঘরে চালের মজুদ আছে। সেকারণে চালের কোন সমস্যা হবে না।

চালের সরবরাহ ঠিক থাকায় এখন বাজারে চালের দামও কমে যাচ্ছে। মিলেই ৫০ কেজির চালের বস্তায় দাম কমেছে মান অনুযায়ি ৬০ থেকে ১০০ টাকা করে। আরো দাম কমবে। তিনি আরো জানান, বোরোর মৌসুমে সরকারিভাবে চাল দিতে মিলারদের সাথে চুক্তির সময় সীমা বাড়াতে পারলে অরো অনেকেই চুক্তি করতো। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার/সাজ্জাদ হোসাইন

উপরে