করোনাকালেও টিএমএসএস হাসপাতালে সেবা দিচ্ছে একদল চিকিৎসক ও নার্স
বগুড়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নতুন রোগি ভর্তি নিতে যতটা অনীহা আর তালবাহানা তার চেয়ে দিগুণ দরদে রোগিদের সেবা দিচ্ছে এক হাজার শয্যার বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল। ২৪ ঘন্টার সেবা দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তৎপর হয়ে আছে। কোন রোগিই তারা ফিরে দিচ্ছে না। এমনকি করোনা রোগির চিকিৎসা দিতে এই হাসপাতালে রাখা হয়েছে ১০টি বেড এবং পিআর ল্যাবে করোনা টেস্ট ও করা হচ্ছে।
জানা যায়, বাংলাদেশসহ গোটা পৃথিবীতেই চলছে করোনার তান্ডব। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে। বগুড়াও এর বাইরে নয়। মরণঘাতি করোনায় আক্রান্তদেরকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ওদের পাশে জীবনবাজী রেখে দাঁড়িয়েছেন বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মি সহ একদল চিকিৎসক। এছাড়াও প্রতিদিনই এখানে ভর্তি হচ্ছেন বেঁচে থাকার আশায় নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা। এক হাজার শয্যার বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন অসুস্থ্যরা যেমন আসছেন তেমনি সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন অসংখ্য রোগী। তাই এমুহুর্তে তাদের কাছে চিকিৎসকরাই হলো তাদের একমাত্র ভরসাস্থল।
এই হাসপাতালে ১ হাজার শয্যা থাকলেও সরকারি অনুমোদন রয়েছে ৭৫০ বেডের। করোনার আগে রোগি দিয়ে ভরা থাকলেও এখন কিছুটা কমেছে ঠিকই কিন্তু কোন রোগি ফেরত দেয়া হচ্ছে না। যতটা সম্ভব চিকিৎসা সেবা দেযা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসক রয়েছে পৌনে তিনশ, এবং নার্স রয়েছে তিনশতাধিক। রয়েছে বেকিছু অভিজ্ঞ চিকিৎসক।
এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগির স্বজনরা জানান, হাসপাতালে রোগি নিয়ে আসবার পরপরই ভর্তি নেয়া হয়েছে। একজন ডাক্তার দেখার পর রোগিকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল হলেও সরকারি হাসপাতালের মতই অনেক কিছুর সুবিধা রয়েছে। এখানে সার্বক্ষনিক নার্স রয়েছে। এই হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি মেন চলছে। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভারে প্রধান প্রফেসার ডাঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে চিকিৎসকরাও রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। যাতে তারা মানসিকভাবেও শক্তি পায়। আমাদের সেবা প্রদানই প্রধাস কাজ। যে রোগি আসছে তার ভাল চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও টিএমএসএস’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান জানান, হাসপাতালে সকল প্রকার চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। বগুড়ার অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে এই হাসপাতালে তুলনামুলক খরচ কম। আছে বেশ কিছু অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ভাল সেবা দিতে সার্বক্ষনিক সিনিয়র চিকিৎসকরাও থাকেন। করোনার মধ্যেও আমরা সকল রোগির চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বাস্থ্য বিধি মেন চলছেন।
বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম জানান, হত দরিদ্র থেকে শুরু করে সকল মানুষের সুচিৎিসার জন্যই এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এই হাসপাতাল মায়ের মত সেবা দিয়ে থাকে। আমাদের চেষ্টা চলছে যতটা কম খররে চিকিৎসা সেবা দেয়া যায়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এটি। এই হাসপাতাল থেকে একটি রোগিও ফিরে যাবে না। শুধু করোনা নয় যে কোন পরিস্থিতিতে এই হাসপাতালে সকল রোগির জন্য চিকিৎসা সেবার দরজা খোলা থাকবে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার/সাজ্জাদ হোসাইন
