প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:১৪

শেরপুরে অবৈধভাবে সার গুদামজাত

শুভ কুন্ডু, শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ
শেরপুরে অবৈধভাবে সার গুদামজাত
ছবিটি একটি খুচরা সার বিক্রেতার দোকান, গুদাম এবং তার ভাইয়ের আরেকটি গুদামে গুদামজাত করা কিছু এমওপি ও ডিএপি সারের। ছবিটি শেরপুর উজেলার ভবানীপুর বাজার থেকে তোলা।

বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সার গুদামজাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে চলতি আলু ও আগামী ইরি মৌসুমে কালোবাজারে অধিক দামে সার বিক্রির আশংকা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসী ভূমিকা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী মহল।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বাজারে আকন্দ ট্রেডার্সের একটি গোডাউনে সহ¯্রাধিক বস্তা এমওপি ও ডিএপি সার মজুদ করা হয়েছে। দোকানের মালিক কলিম উদ্দীন আকন্দ নিজেকে সাব ডিলার দাবি করেন। এ সক্রান্ত নথিপত্র দেখতে চাইলে তিনি শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ২০০৯ সালের একটি খুচরা সার বিক্রেতার আইডি কার্ড প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তিনি বগুড়ার কনক ট্রেডার্সের কাছ থেকে ৪৪০ বস্তা ডিএপি সার ক্রয় করেছেন। সার ক্রয়ের ভাউচার দেখতে চাইলে তিনি যশোরের নওয়া পাড়ার জাহিদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীর পরিবহনের একটি চালান প্রদর্শন করেন। এরপর তার কাছ থেকে কথিত কনক ট্রেডার্সের মোবাইল নাম্বার নিয়ে কথা বললে তারা সার বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন তারা শেরপুরে কোন সার বিক্রিই করেন নাই।

এ দিকে কলিম উদ্দীন আকন্দের ভাতিজা মমিনুর রহমানের চাতালের গোডাউনেও মিলেছে আরও দুইশ বস্তা ডিএপি সার। সারের উৎস ও মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নিজস্ব জমিতে প্রয়োগ করার উদ্দেশে এই সার মজুদ করেছেন। তবে তিনিও সার ক্রয়ের কোন প্রমানপত্র দেখাতে পারেন নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ওই ব্যবসায়ীর গোডাউনে মাঝে মাঝেই গভীর রাতে ও ভোরসকালে সার আনলোড করা হয়। তারা কৃষকদের কাছে অধিক দামে সার বিক্রি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
যদিও সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০০৯ অনুযায়ী একজন খুচরা সার বিক্রেতা অনুমোদিত ডিলার বা অনুমোদিত উৎস ব্যতীত অন্য কোন উৎসের সার বিপনন বা সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কোন ব্যবসায়ী বা বিক্রেতার ডকুমেন্ট যাচাই করার এখতিয়ার কোন সাংবাদিকের নেই। একমাত্র ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাই তা করতে পারেন।

তার পরও আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই সার বিক্রেতাকে ডেকে কথা বলেছি। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবার দেখা করতে বলা হয়েছে। কোন অনিয়ম প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম চাঁদনী বাজারকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

উপরে