বগুড়ায় বাসচাপায় ৬ জনের নিহতের ঘটনায় র্যাবের হাতে সেই বাসচালক গ্রেফতার
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় ৬ জন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সেই বাসচালক সাইফুল ইসলামকে (৫৬) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)।
মঙ্গলবার সকালে দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১২ এর অধিনায়কের কার্যালয়ের (সিরাজগঞ্জ) মিডিয়া অফিসার (সহকারী পুলিশ সুপার) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার একতা হোটেলের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বাসচালক সাইফুল ঢাকা সাভারের বেগুনবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জানে আলম।
গত ২৬ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে শেরপুরের মির্জাপুর থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা উপজেলার ছোনকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অটোরিকশাটি উপজেলার রাজাপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা (ঢাকা থেকে বগুড়াগামী) হানিফ পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা এক নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যান। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বাস চালক সাইফুল।
নিহতরা হলেন-বগুড়া ধুনট উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী হৃদয় হাসান ও তার স্ত্রী ২১ বছর বয়সী সাথিয়া খাতুন। নিহত অন্যরা হলেন-শেরপুর উপজেলার চোমরপাথালিয়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী আলোয়ার হোসেন, একই গ্রামের ২৫ বছর বয়সী আব্দুল রহীম, বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানি পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী নীল রতন পাল ও অটোরিকশা চালক শেরপুর উপজেলার ধড়মোকাম গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী বাবলু প্রামাণিক।
এ ঘটনায় বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতেই নিহত অটোরিকশা চালকের ছেলে মো. সেলিম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় সড়ক পরিবহন আইন মামলা করেন। মামলায় হানিফ পরিবহনের ঐ বাসের চালককে আসামী করা হয়। একই সঙ্গে র্যাব-১২ এর কাছে লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।
র্যাব কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হানিফ পরিবহনের চালক সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
