প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বেই বগুড়ায় খুন হয় যুবলীগ কর্মী মিরাজ
ত্রিভুজ প্রেমের কারণে বগুড়ায় এ্যাডওয়ার্ড পৌর পার্কে যুবলীগ কর্মী মিরাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বেই বর্তমান প্রেমিক ও তার সঙ্গীদের হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে তার। ঘটনার ১২ ঘন্টার মধ্যেই হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও রক্তমাখা জ্যাকেটসহ ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে হত্যার রহস্য উন্মোচন পরবর্তী এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজেই মাঠে ছিলেন আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আলী হায়দার চৌধুরীর তত্বাবধানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম ও ডিবির ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ্’র নেতৃত্বে সদর ও সোনাতলা উপজেলা থেকে হত্যার সাথে সরাসরি যুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে যিনি কথিত প্রেমিক তার বয়স ১৮ বছরের নিচে। যে একজন শিক্ষার্থী। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন সোনাতলা উপজেলার মুন্নু মিয়ার ছেলে শিক্ষার্থী তারেক রহমান (১৮) ও বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোহাম্মাদ মিঠুন (২৮) যে পেশায় একটি ফটোস্ট্যাট দোকানের কর্মচারী। অভিযানে শুধু আসামী গ্রেফতারই নয় উদ্ধার করা হয়েছে মিরাজ হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও রক্তমাখা জ্যাকেট। যার মাধ্যমে ১২ ঘন্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বগুড়া জেলা পুলিশের অভিযানে।
হত্যার কারণ প্রসঙ্গে প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার জানান, মিরাজের সাথে বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার একটি মেয়ের প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে কিছুদিন আগে ওই মেয়ের সাথে এক কিশোরের (মূল অভিযুক্ত) ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরেই ওই কিশোরের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যায়। কিন্তু ওই মেয়ের ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ছিল মিরাজের কাছে। মিরাজ তার প্রেমিকার ফেসবুক লগইন করলে জানতে পারেন, ওই মেয়ে নতুন পরিচয় হওয়া কিশোরের সাথে এক ধরনের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু ওই মেয়ে মিরাজের কাছে তা অস্বীকার করেন। মেয়েটি বলেন যে, ওই ছেলে (অভিযুক্ত) আমাকে ফেসবুকে বিরক্ত করছে। এরপর মিরাজ ওই ফেসবুকে কিশোরের সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে মিরাজ ও ওই কিশোরের ফেসবুকে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা সরাসরি বসে সমধান করবেন বলে জানান।
যার ফলশ্রুতিতেই মঙ্গলবার বিকেলে পৌরপার্কে বসেন মিরাজ ও ওই কিশোরের বন্ধুবান্ধব। তবে ঘটনাস্থলে মীমাংসার জন্য ওই মেয়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেন নি। একপর্যায়ে মিরাজ ও তার বন্ধু নাজমুলের সাথে অভিযুক্তদের কথা বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরেই তাদের মধ্যে মারধর শুরু হয়। ওই সময় কিশোরের (মূল অভিযুক্ত) সহযোগী মিঠুন তার কাছে থাকা বার্মিজ চাকু দিয়ে মিরাজ ও মিরাজের বন্ধু নাজমুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে মিরাজের পাজড়ের দুই জায়গায় ছুরির আঘাত লাগে।
তবে স্থানীয় লোকজন মিরাজ এবং তার সাথে থাকা নাজমুলকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং নাজমুলকে চিকিৎসা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ বগুড়া পুলিশ সুপার আরো জানান, মিরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মামলাটি তদারকি করছেন। পাশাপাশি ওই মেয়ের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধ না থাকলে সে এই মামলায় অন্যতম স্বাক্ষী হবে। এছাড়াও ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্ত্তী সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সন্মিলিতভাবে সকল অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে মানসিক অবক্ষয় রোধে তিনি অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন না হলে কিশোরদের মাঝে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা মুশকিল হবে মর্মে বলেন তিনি। এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ্ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া ৩ আসামী বুধবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
