বগুড়ায় নৌকা দেখতে নৌকা ভাসালো তিন শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থী
মরা ও দুষণ নদীতে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ আর পাল তোলা নৌকা দেখার প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিকী কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিয়েছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে করতোয়া নদীতে প্রায় তিনশতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীরা নৌকা দেখবে বলে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দেয়। স্কুল শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে বানানো কাগজের নৌকাগুলো নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে দখল ও দুষণকারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
প্রতিকী কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থী আরাস হাসান জানান, আমরা নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোছল ও সাঁতার কাটতে চাই। করতোয়া নদীটি এখন দুষণ ও দখলে মরা খালে পরিনত হয়েছে। এই নদীকে বাঁচালে আবারো নতুন করে পাল নৌকা দেখা যাবে। নদীতে মাছ পাওয়া যাবে।
শিক্ষার্থী ঐশী দাস বলেন, তিনি তার দাদা ও দাদীর কাছে গল্প শুনেছেন বগুড়ার করতোয়া নদীতে একসময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করতো। জেলেরা মাছ ধরতো। বড়বড় নৌকা নিয়ে মালামাল খালাস করতো। কিন্তু পর্যায়ক্রমে নদীর জায়গা দখল ও দুষণের ফলে নদী মরাখালে পরিনত হয়েছে। সে কারণে নদীতে এখন আর নৌকা চলে না। ড্রেনের ময়লা পানি নিয়ে কোনমতে বেঁচে আছে করতোয়া নদী। বর্ষাকাল ছাড়া নদীতে পানি থাকে না। আমরা নদীতে আবারো নৌকা ও স্বচ্ছ পানি দেখতে চাই।
শিক্ষার্থী মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, করতোয়া নদীতে নৌকা চলাচল দেখতে চাই। শুনেছি একসময় করতোয়া নদীকে ঘিরে অসংখ্য জেলে জীবন ধারণ করতো। করতোয়ার পানি দিয়ে এলাকায় চাষবাস হতো। কিন্তু এখন করতোয়া নদীতেই পানি নেই। সে কারণে নদীতে নৌকা চলাচল দেখতে চাই। করতোয়ার স্বচ্ছ পানি প্রবাহ দেখার ইচ্ছে থেকেই নদীতে প্রতিকী নৌকা ভাসনো হলো।
বিশ^ পানি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া শাখার আয়োজনে মরা নদীতে (প্রতিকী) কাগজের নৌকা ভাসান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে জেলা শহরের বগুড়া ইসলামিক মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ও ভাইবোন মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচি চলাকালে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা বগুড়া শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল করিম দুলাল। বক্তব্য রাখেন বাপা বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান,বগুড়া কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল মামুন সরদার, বগুড়া ইসলামিক মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবিনাস চন্দ্র পাল এবং ভাইবোন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেহানা খাতুন। প্রতীকী এই কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, রোটাঃ মোস্তাফিজার রহমান, সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, জাকিয়া সুলতানা, এড. আশরাফুন্নাহার স্বপ্না, অধ্যাপক আবু তাহের, শাহান-ই-জেসমিন ডরোথী, এম ফজলুল হক বাবলু, এড. আজাদ তালুকদার, কানিজ রেজা, সৈয়দা তাহমিনা পারভিন শ্যামলী, মোঃ মুদাচ্ছির রহমান, টিএম মামুন, আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
