প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২২ ২৩:২৮

বগুড়ায় ২০ কোটি টাকার খেজুর বিক্রির টার্গেট

এইচ আলিম
বগুড়ায় ২০ কোটি টাকার
খেজুর বিক্রির টার্গেট

বগুড়ার বাজারে চলতি রমজান মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার খেজুর বিক্রির টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে খেজুর ব্যবসায়িরা। সৌদিআরব, ইরাক ও দুবাই থেকে আসা এই খেজুরের নাম এবং মান যেমনই হোক বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। চলতি রমজান মাসে ২ হাজার টন খেজুর বিক্রির জন্য মজুদ করা হয়েছে। আর রমজান মাস পেয়ে খেজুর ব্যবসায়িরা দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বগুড়া শহরের কঠাঁলতলা, স্টেশন রোড, সাতমাথা, থানা রোড, তিনমাথা, চারমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় খেজুর বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে খোলা বাজারে বিক্রি করা বেশিরভাগ খেজুরই গত বছরের বেঁচে যাওয়া এবং হিমাগারে রাখা খেজুর। রমজান মাসে বিক্রির জন্য হিমাগারে রাখা খেজুর এখন বগুড়ার বাজারে বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। পাইকারী বাজারের সাথে খুচরা বিক্রিতে দামের রয়েছে হেরফের। এ নিয়ে ভোক্তাদের রয়েছে নানা অভিযোগ। এসব অভিযোগ নিয়েই বগুড়ায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে খেজুর। নিম্নমানের খেজুরে বাজার ভরে উঠেছে। নিম্নমানের খেজুরের সাথে গত বছরের হিমাগারে রাখা খেজুর বাজারে বিক্রি হচ্ছে। নিম্নমানের এই সব খেজুর বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে এই খেজুর বিক্রি হচ্ছে। 
বগুড়ার খেজুর ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রমজান মাস আসার ৪ থেকে ৫ মাস আগেই খেজুর মজুদ করে থাকে। হিমাগারে রেখে এই খেজুর মজুদ করা হয়। হিমাগার থেকে বের করে এই খেজুর মোকামে নেওয়া হয়। সেখান খোলা বাজারের বিক্রির জন্য পাইকারি ব্যবসায়িদের হাতে তুলে দেয় মোকামের ব্যবসায়িরা। উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার খেজুরের মোকাম সবচেয়ে বড়। এই মোকাম থেকেই জেলার পাশের জেলাতেও খেজুর বিক্রি হয়ে থাকে। 
বিভিন্ন মান ও দামের খেজুর থাকলেও ইরাক থেকে আসা জাহিদী খেজুর (স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট ইরাকী বস্তা খেজুর হিসাবে পরিচিত) ও দুবাই থেকে প্যাকেট খেজুরের (১০ কেজির কার্টুন) চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ১০ কেজি কার্টুনের খেজুরের আবার বিভিন্ন মান ও দাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে দাবাস, লুলু. রিজিস ও নাগাল। এছাড়া ৫ থেকে ৯ কেজি’র প্যাকেটে আসা বিভিন্ন খেজুর রয়েছে। এগুলো হলো- মদিনা খেজুর, মরিয়ম খেজুর, তিউনিশিয়া খেজুর সহ বিভিন্ন নামের খেজুর। ব্যবসাীয়রা জানান, কার্টুন খেজুরের (প্রতি কার্টুনে ১০ কেজি) দাম ও মান মাঝারী হওয়ায় এ খেজুরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এর পরে চাহিদা রয়েছে ইরাকী বস্তা খেজুরের। গত বছর বস্তা খেজুর প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এবার রমজান মাসে শুরু হওয়ায় খোলা বাজারে ১০০ থেকে ১২০ কেজি বিক্রি হচ্ছে। 
মাঝারী পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সব ধরনের খেজুরের দাম কম ছিল। রোজা চলে আসায় দাম বেড়েছে। গতকাল শনিবার বগুড়ার বাজারে খেজুর বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন দামে। মরিয়ম খেজুর মান অনুযায়ি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতা খেজুর না চেনার কারণে মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দমে। আজুয়া খেজুর ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি। দোকানিরা বলছেন আজুয়া খেজুরের কয়েকটি জাত রয়েছে। সে কারনে দামের তারতম্য রয়েছে। লুলু বড়ই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বড়ই ২০০ টাকা, ব্ল্যাক মরিয়ম ২৬০ টাকা, বস্তা খেজুর ১০০ টাকা, বার্নি ১৮০ টাকা, কামরাঙ্গা ৪০০ টাকা, কাঁচা খেজুর ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 
বগুড়ার ফল ব্যবসায়িরা জানান, বগুড়ায় এবার ভাল মানের খেজুর এসেছে। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ি রমজানের ৫ থেকে ৬ মাস আগে খেজুর নিয়ে এসে হিমাগারে রেখে দিয়েছেন। কিন্তু হিমাগারে বেশিদিন রাখতে হয়না। এখন সারা বছরই খেজুর বিক্রি হয়ে থাকে। এবছর খেজুরের দাম বাড়েনি। জেলা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন  

উপরে