বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে বগুড়ায় অসহায় ১২টি পরিবার খুঁজে পেল মাথা গোঁজার ঠিকানা
হামার বাপ-মাও মানুষের দুয়ারে দিনমজুরি করে কোনমতে জীবনডাক বাঁচায় রাখছিলো স্যার, ছিলোনা কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই! কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর পুলিশ স্যারেরা হামার মাও বাপেক একটা আশ্রয় দিলো যা হামরা সন্তানেরা দারিদ্রতার জন্যে করব্যার পারি নি। আল্লাহ পুলিশের ভাল করুক, আর শেখ হাসিনাক অনেকদিন বাঁচায় রাখুক.... অন্তর থেকে এমনই অনুভূতি প্রকাশ করছিলো বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে বগুড়া জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় জমিসহ বাড়ি পাওয়া বগুড়ার শাজাহানপুর থানার চুপিনগর ইউনিয়নের দিনমজুর আরিফুল ইসলাম ও সাহেরা’র মেয়ে টপি খাতুন। আর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন যখন বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে তাদের ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে দলিল তুলে দিলেন তখন জীবনে প্রথম নিজের বাড়িতে উঠবে এই খুশিতে অশ্রুসিক্ত চোখে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বাড়ি পাওয়া দিনমজুর আরিফুল। আরিফুলের মতো এমন হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেছে বগুড়া জেলার বাকি থানাগুলোতেও।
মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্যে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বগুড়ায় জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম এর নেতৃত্বে রবিবার জেলার ১২টি থানায় ১টি করে পরিবারকে জমির দলিলসহ মোট ১২টি পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্থাপিত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক এবং গৃহহীন পরিবারের জন্যে নির্মিত গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের সারাদেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনের পরপরই জেলার ১২টি থানায় বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা ১২টি হতদরিদ্র পরিবারের জন্যে নির্মিত পরিবেশ বান্ধব গৃহ যার দলিল হস্তান্তর করেন। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ঘোষণার সাথে সাথে বগুড়ার ৯টি থানা যথাক্রমে শিবগঞ্জ, সোনাতলা, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, কাহালু, ধুনট, নন্দীগ্রাম, গাবতলী এবং দুপচাঁচিয়ায় নব-নির্মিত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের নতুন ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়। আর সদরসহ শাজাহানপুর ও আদমদিঘী এই ৩ থানাতে বর্তমানে নতুন ভবনেই এই ডেস্কের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের কর্ণধার আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় বগুড়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় সব থানাতে একটি করে সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচিত করা হয়েছে যারা প্রত্যেকেই রবিবার জমির দলিলসহ দুটি রুম বিশিষ্ট গৃহ বুঝিয়ে পেয়েছে। শুধু তাই নয় জেলা পুলিশ প্রতিটি গৃহে সুপ্রশস্ত বারান্দা, টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণেরও ব্যবস্থা করেছে। বগুড়ার ১২টি থানায় যারা গৃহ পেয়েছেন তারা হলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করা ৬০ বছর বয়সী সদর থানার আমেনা বেগম, শিবগঞ্জে গৃহিনী সালমা বেগম (৩৭), ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতর জীবনযাপন করা সোনাতলা থানার স্বামীহারা জামিলা বেওয়া (৪৮), অন্যের বাড়িতে কাজ করা ৬১ বছর বয়সী গাবতলী থানার আনোয়ারা বেগম, সারিয়কান্দি থানার ভূমিহীন গৃহিনী সালেহা বেগম (৫৫), আদমদিঘী থানায় ভিক্ষুক ইসব আলী (৪০), দুপচাঁচিয়া থানায় ভিক্ষুক মোছা: কমেলা (৫৮), কাহালু থানায় ভিক্ষুক মো: সুরুজ্জামান (৪৮), নন্দীগ্রামে দরিদ্র নাপিত গুপিনাথ শীল (৫৮), শেরপুরে ৫৫ বছর বয়সী গৃহিনী নুরজাহান বেগম, ধুনটে ভূমিহীন কৃষক মোফাজ্জল হোসেন (৩৩) এবং শাজাহানপুরে ভিক্ষাবৃত্তি ও দিনমজুরি করে দিনযাপন করা আরিফুল ইসলাম (৬০)।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম জানান, বাংলাদেশ পুর্লিশের গর্বিত সদস্য হিসেবে তাদের কাছে উক্ত দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে বাংলাদেশ পুলিশ ছোট পরিসরে হলেও সারাদেশে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছে। সেটি হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্যে অঙ্গিকার পূরণের মাধ্যমে পাশে থাকার ইতিহাস। দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ আজ প্রতিটি থানায় একটি করে পরিবারকে যে গৃহ হস্তান্তর করলো তা তে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন, গণমানুষের সেবায় বগুড়ায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তিনি বগুড়ার আপামর জনসাধারণের যেকোন প্রয়োজনে জেলা পুলিশের সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান এবং জনগণের জন্যে তাদের দ্বার সর্বদা খোলা রয়েছে মর্মে জানান এই কর্মকর্তা।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
