অবৈধ সম্পদ অর্জনে স্ত্রীসহ আক্কেলপুরের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ অর্জনে স্ত্রীসহ আক্কেলপুরের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সাবেক মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী এবং তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শিমুল।
অবৈধভাবে প্রায় দেড় কোটি টাকা সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের সাবেক মেয়র ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। সোমবার বেলা ১২ টার দিকে বগুড়া দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে স্বামী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।
মামলার আসামী সাবেক মেয়রের নাম মো. গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ওরফে অবসর এবং তার স্ত্রী মোছা. কামরুন্নাহার শিমুল। তারা জয়পুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া আলহেরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।
গোলাম মাহফুজ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। আর তার স্ত্রী জয়পুরহাটের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত।
এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নূর আলম। তিনি গোলাম মাহফুজ ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলাম মাহফুজ ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়।
২০১৯ সালের ৩১ জুলাই গোলাম মাহফুজ তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দাখিল করেন। এতে তার দাখিলকৃত স্থাবর সম্পদ দেখানো হয় ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৬৭ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখান ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৯৩১ টাকা। একই সাথে তার দেনা দেখান ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫০ টাকা।
কিন্তু দুদক কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে গোলাম মাহফুজের স্থাবর সম্পদ ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮ টাকা বের হয়। এ হিসাবে তিনি এক লাখ ৬৫ হাজার ৮২১ টাকা পরিমাণ স্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেন।
এ ছাড়াও গোলাম মাহফুজের ২১ বছরের জমানো আয়, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত থেকে পাওয়া অর্থের হিসাবে মোট ৯৯ লাখ ১০ হাজার ৭৯৪ টাকার অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক।
অপর মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কামরুন্নাহার ২০১৯ সালের একই তারিখে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ২৬৭ টাকা স্থাবর, ২৭ লাখ ৪ হাজার ২৫ টাকা অস্থাবর এবং ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৫ টাকা দেনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ হিসাব যাচাই করে দুদক কর্মকর্তারা ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৮৮ টাকার স্থাবর সম্পদ খুঁজে পান।এ থেকে স্বামীর মতো কামরুন্নাহারও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।
আর তার সকল সম্পদ বিবরণী যাচাই করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে ৩৬ লাখ ৭ হাজার ১৬৪ টাকার অসঙ্গতি পায় দুদক।
স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের বিষয় স্বীকার করেন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থেকেও দুপুরে মামলার বিষয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি।
মুঠোফোনে গোলাম মাহফুজ বলেন, আমি এখন ঢাকায় আছি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার নামে এ ধরনের কাজ এক ধরনের ষড়যন্ত্র।
প্রায় চার বছর আগে বেনামী একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল দুদকের কাছে। ওই অভিযোগ দিয়েই এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জয়পুরহাটে ও সাভারে আমার ফ্লাট রয়েছে। সেগুলোর হিসাব দুদককে দিয়েছি। আমি ব্যবসায়ী, সাবেক মেয়র। আমার স্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে চাকরি করেছেন। এতটুকু থাকা স্বাভাবিক।
দুদকের সহকারী পরিচালক নূর আলম জানান, গোলাম মাহফুজ ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের নামে জয়পুরহাটে একটি পাঁচ তলা ভবন রয়েছে। মূলত এই ভবনের আর্থিক মূল্য তারা গোপন করেছেন। জেলা গণপূর্ত দপ্তর থেকে ওই ভবনের মূল্যায়ন করে তার আর্থিক হিসাব বের করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ সম্পদ অর্জন, গোপন করার তথ্য উঠে আসায় দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দুই জনের নামে আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
