প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২২ ২৩:৫৮

বালু দস্যুদের দ্বারা ধ্বংস হতে বসেছে শ্মশান ঘাঁট এক সময়কার করতোয়া অস্তিত্ব সংকটে

শ্যামলেন্দু মোহন রায় (স্টাফ রিপোর্টার):
বালু দস্যুদের দ্বারা ধ্বংস হতে বসেছে শ্মশান ঘাঁট
এক সময়কার করতোয়া অস্তিত্ব সংকটে

হিন্দু শাস্ত্রবিদদের কথায় বলতে গেলে ‘গঙ্গার সাথে যে নদীর কোন সম্পর্ক নেই; সেই নদী তীরে শ্মশান ঘাঁট অসম্ভব’। ঠিক এমনই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার অন্যতম বৃহৎ পেকস হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত বারোয়ারি শ্মশান ঘাঁটটি।
এক সময়কার ভরা যৌবন নিয়ে ছুটে চলা করতোয়া নদীর আদি অবস্থান- কালক্রমে আজ শাখা নদীতে পরিণত হয়েছে। তার ওপর এ উপজেলার চিহ্নিত বালু দস্যুদের নির্বিচারে বালু উত্তোলন ও তা সংরক্ষণে পুরো নদী মুখ ভরাট করে ফেলেছে। অবৈধ বালু বিক্রির পয়েন্ট করায় আজ শ্মশান ঘাঁটটি ধর্মীয় আবেদন হারিয়ে ফেলছে।
এটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট হিন্দু সম্প্রদায় যেমন অসহায় হয়ে পড়েছে; তেমনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নজরে না আসায় খোদ পৌর মেয়র সেখানে উপস্থিত হয়ে শনিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভ দিতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে নানা সমালোচনার ঝড় ওঠায় অনেকেটাই নড়েচড়ে বসেছে সর্বমহলের কর্তারা। তাদের জিজ্ঞাসা এ কাজের সাথে জড়িত কারা? কীভাবেই বা দিনের পর দিন চলল বালু ব্যবসা?
এ বিষয়ে কথা হয় বিশিষ্ট নাগরিক শৈলেন্দ্র মোহন রায়ের সাথে। তিনি জানান, শবদাহে ওই স্থানটি নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এটি ব্যবহার করা জনগোষ্ঠীর দাবি দ্রুত অবৈধ বালু সরিয়ে করতোয়ার এ শাখা নদীকে রক্ষা করা হোক।
প্রসঙ্গত, দুই বা তিন যুগ আগে এ অংশই ছিল মূল করতোয়া। কালক্রমে এটি গতিপথ পাল্টাতে থাকায় এখন শাখা বা মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। তবুও ভরা বর্ষা মওসুমে এই শাখা নদীর পানি দু’কূল ছাপিয়ে বর্তমান করতোয়ায় গিয়ে মিশে। আর তাতেই গঙ্গার সানিধ্য লাভ করে। সেই বিশ্বাসে এখনও গ্রহণ যোগ্যতা আছে এ শ্মশান ঘাঁটটির।
বর্তমানে নদী তীরে নিচু জায়গা ভরাট হওয়ায় শবদেহ দাহ্য’র কাজ তাদের সারতে হচ্ছে নদী তীরের উঁচু স্থানে। কিন্তু সেখানে ব্যবহৃত পানি আর যাচ্ছে না নদীর তীরবর্তী তলদেশে। যেভাবে ভূমি ও বালু দস্যুরা এটি দখলে নিয়ে এবং প্রধান মুখ ভরাট করেছে; তাতে এ অংশে শ্মশান ঘাঁটটি পরিত্যক্ত ঘোষণা ছাড়া উপায় নেই। রক্ষা পাক শ্মশান ঘাঁটটি; রক্ষায় এগিয়ে আসুক সংশ্লিষ্টরা-এমনটাই সকলের চাওয়া ।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন 

 

উপরে