প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২২ ২০:০০

নন্দীগ্রামে ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেট সারের দাম লাগামহীন কৃষক দিশেহারা

ঘুমিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনধি:
নন্দীগ্রামে ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেট সারের দাম লাগামহীন কৃষক দিশেহারা

বগুড়ার  নন্দীগ্রাম উপজেলার সর্বত্র ব্যাবসায়ীদের  জটিল সিন্ডিকেটের  কারনে  সারের  দাম ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে এই ভরা আমন মৌসুমে লাগামহীন সারের দামে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। খোলা বাজারে সারের এমন লাগামহীন দাম বাড়ার পরেও এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যার কারনে ক্রয়ের রশিদ ছাড়াই ইচ্ছেমত সারের দাম নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।  প্রাপ্ত তথ্যে  জানা গেছে,  সারা দেশের ন্যায় নন্দীগ্রাম উপজেলায় সর্বত্র আমন ধান রোপন শুরু হয়েছে, সেই সুযোগে কিছু অসাধু  সার ব্যাসায়ী  কৃষকদের  কাছে সার সংকটের  কথা বলে সরকারের নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে অধিক হারে  বিভিন্ন ধরনের  সার বিক্রয় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এতে করে কৃষক সার ক্রয় করতে হিমসিম খাচ্ছে। অথচ সরকার সার সংকট হবেনা বলে আগেই ঘোষনা দিয়েছে। বর্তমানে নন্দীগ্রাম  সদরসহ রনবাঘা, কুন্দারহাট, হাটকড়ই, শিমলা, পন্ডিতপুকুর, উমরপুর, বীজরুল, চাকলমা, নামুইট, ধুন্দার সহ বিভিন্ন হাট ও বাজারে  সরকারের নির্ধারিত মুল্যেকে বৃদ্ধাঙ্গুলী  দেখিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু সার ব্যাবসায়ী  চড়া মূল্যে  সার বিক্রয় করে অবৈধ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। কৃষকের এমন নাজেহাল অবস্থার পরেও যেনো দেখেও দেখছেনা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান নেই তাদের কোন পদক্ষেপ।  বর্তমানে নন্দীগ্রামে  যে দামে  সার বিক্রয় হচ্ছে  ইউরিয়া প্রতি  বস্তা সরকারী ভাবে বিক্রয়  করার কথা ৮শ টাকা কিন্তু ব্যবসায়ীরা বিক্রয় করছে ৮৭০/৮৮০ টাকা,  টি,এস,পি বিক্রয় করার কথা ১১শ টাকা কিন্তু বিক্রয় করছে ১২শ ৫০ টাকা থেকে ১৪শ টাকা, এম,ও,পি বিক্রয় করার কথা  ৭৫০ টাকা কিন্তু বিক্রয় করছে ১২শ ৫০ টাকা,  ডি,এ,পি  বিক্রয় করার কথা  ৮শ টাকা কিন্তু বিক্রয় হচ্ছে ৯শ থেকে ১হাজার টাকা । নন্দীগ্রাম  উপজেলায় সরকারী ভাবে  সার বিক্রয় করার জন্য  বি, সি, আই, সি ডিলার আছে ১৩ জন,  এবং বি, এ,ডি,সি ডিলার আছে  ২৩ জন,  ওই সকল ডিলারগন সরকারী ভাবে  সার পেলেও তারা কোন কৃষকের নিকট সরকারী মূল্যে সার বিক্রয় করেনা  বলে অভিযোগ উঠেছে। নন্দীগ্রামে গত বোরো মৌসুমে  কৃষকদের ধান নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।  এর উপর ওই সকল অসাধু  সার  ব্যববসায়ী  বেশি দামে সার বিক্রয় করায় কৃষকগন  দাদন ব্যাবসায়ীদের  নিকট থেকে টাকা নিয়ে আমন ধান আবাদ করছে।  বিভিন্ন গ্রামের বেশ কিছু কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সার কিনতে গেলে তারা বেশি দাম নেয় কিন্তু তারা কোন রশিদ দিতে চায়না।  অপরদিকে  অধিকাংশ  সারের দোকানে কোনো মূল্যে তালিকা টাঙানো  হয়নি। যার কারনে কৃষকগন বুঝতে পারেনা সরকারী ভাবে সারের মূল্য কত।  সব মিলিয়ে  ওই ভরা আমন মৌসুমে  সারের দাম বৃদ্ধি  হওয়ার কারনে  কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে । উপজেলার কয়েকজন কষক বলেন, হঠাত সারের দাম এমন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন চাষ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতি বস্তা সারে ১ থেকে ২শ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাজার মনিটরিং করলে সারের দাম এমন বাড়তো না।  এ বিষয়ে উপজেলা বি,সি,আই,সি  ডিলার  প্রতিনিধি আলহাজ্ব মোখলেছার  রহমান জানান, সারের বরাদ্দ কম থাকার কারনে  কিছু সমস্যার সৃষ্টি  হয়েছে তবে সারের বরাদ্দ বাড়ালে ওই সমস্যা থাকবেনা।  অপরদিকে বি,এ,ডি,সি ডিলার প্রতিনিধি কোরবান আলী জানান, সারের চাহিদা বেশি কিন্তু তার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি  হতে পারে। এদিকে সরকার পর্যাপ্ত সার মজুতের কথা বললেও নন্দীগ্রামের কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী  সারের দাম বেশি নেওয়ার কারনে সরকারের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন হচ্ছে।  এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু’র সাথে কথা বললে  তিনি জানান, আমার  জানা মতে নন্দীগ্রাম  বাজারে কেউ সারের দাম বেশি নিচ্ছেনা যদি কেউ নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

 

উপরে